ঢাবিতে গেস্টরুম দখল নিয়ে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের হাতাহাতি

ঢাবি: গেস্টরুম দখল নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুসারীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখানোর জন্য গেস্টরুম করান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গেস্টরুম করানোর জন্য রাতের সময়কে ভাগ করে নেয় হলের শীর্ষ নেতারা। সপ্তাহে তিনদিন দুই ঘণ্টা করে ভাগ করে শিক্ষার্থীদের ম্যানার শেখায় ছাত্রলীগের এক গ্রুপের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বর্তমানে ছাত্রলীগের চারটি করে গ্রুপ রয়েছে।

চার গ্রুপের প্রত্যেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক যে কোনো একজনের অনুসারী হয়। যে যার অনুসারী সে তার নেতার দিক থেকে হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী। প্রত্যেক নেতার অনুসারী গ্রুপের নেতাকর্মীরা হলে আলাদা সিট দখল করে থাকে। প্রত্যেক গ্রুপ তাদের দখলকৃত সিটে উঠা শিক্ষার্থীদের ম্যানার শেখান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের গ্রুপের গেস্টরুমের নির্ধারিত সময় ছিল সাড়ে দশটায়। আর লেখকের গ্রুপের সাড়ে আটটায়। সাড়ে আটটায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকে বলে লেখকের অনুসারীরা আজকে তাদের সাড়ে আটটার নির্ধারিত গেস্টরুমের সময় পরিবর্তন করে সাড়ে দশটায় টিভিরুম দখল করে নেয়। জয়ের গ্রুপের অনুসারীরা গেস্টরুম নিতে গেলে তাদের ৫ মিনিট ৫ মিনিট করতে করতে তাদের ১ ঘণ্টা মতো অপেক্ষা করায়।

এতে জয়ের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গেস্টরুমে ঢুকে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তখন লেখকের ১ম ও ২য় বর্ষের অনুসারীদের রড স্ট্যাম্প নিয়ে টিভি রুমে আসতে দেখা যায়।

তবে হাতাহাতির ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখকের দিক থেকে হলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী ফাহিম হাসান ঘটনা অস্বীকার কর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রুপের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা টিভিরুমে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কথা বলছিল। এ সময় জয় ভাইয়ের গ্রুপের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সেখানে যাওয়ায় আমাদের গ্রুপের সাথে একটু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা সাথে সাথে সেখানে গিয়েছি। সেখানে কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি’।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের দিক থেকে হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী হারুন বলেন, ‘আমাদের গ্রুপের ছেলেরা টিভি রুমে টিভি দেখতে গিয়েছিল। সেখানে একটু ঝামেলা হয়েছে’।

ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি এ ঘটনা সম্পর্কে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি’। এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছিরকে ফোন দেয়া হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *