ধর্ষণ চলতেই থাকবে!

সুলতান মাহমুদ আরিফ: ধর্ষণ হলো আওয়াজ উঠলো। সারাদেশে খবর হয়ে গেলো ঢাবিতে একটি মেয়ে ধর্ষণের স্বীকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আন্দোলন খুব চাঙ্গা হলো। দলমত নির্বিশেষে সবাই রাজপথে নেমে বিচার চাইলো। প্রশাসনের টনক নড়ে উঠলো।
প্রশাসন এবার মাঠে নামছে। ধর্ষণকারীকে ধরেই ছাড়বে। তাই হয়েছে ধর্ষণকারী কয়েকদিনের মাথায় ধরা খেয়েছে।আদালতে তোলা হয়েছে। তাকে মাতাল বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এখন তার আর কি অবস্থা আমরা জানি না। তবে ধন্যবাদ প্রশাসনকে বিচার হোক আর না হোক ধরা তো পড়েছে।
ধর্ষক ধরা পড়লো । মিডিয়াতে দেখানো হলো । নানাজন নানা মতামত প্রদান করলেন। কেউ বললেন নাটক আবার কেউ বললেন বাস্তব। নাটক আর বাস্তব বললেও মোটামটি কয়েক দিন আলোচনা চলল। এতেও খারাপ কি। আলোচনা তো হলো।
দিনে গিয়ে সপ্তাহ হলো। আবার দিন শুরু হয়ে সপ্তাহ শুরু। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীরা আস্তে আস্তে ঘরে ফিরে গেলো। তারা তাদের কাজ কর্মে মনোনিবেশ করলো।বাড়ী থেকে মা বাবার বার বার সচেতন করার চিন্তাটাও হারিয়ে গেলো। আবার আগের মত চলছে দিন আসছে রাত যাচ্ছে।এভাবেই চলছে——
একদিন আর নামগন্ধও নেই।ঢাবিতে কোন একদিন ধর্ষণ হয়েছে সেই চিন্তাটাও আর কারো মাথায় নেই।
আবারও ধর্ষকের যৌনক্ষুদা চরমে গিয়ে পৌঁছালো। তার চোখে আবারও নারীদের কেবল মাংসপিণ্ড মনে হতে লাগলো। সে সিংহের ন্যায় ক্ষুধার্ত হতে লাগলো।তার সামনে দিয়ে একেবারে উপযুক্ত শিকারী বার বার হেঁটে যাচ্ছে। তার ক্ষুদা আরও বাড়া শুরু করলো। সে এবার প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত। সিদ্ধান্ত নিয়েই পেলল, এবার যেভাবেই হোক স্বীকারকে ভোগ করতেই হবে।
দিনক্ষণ ঠিক করলো। তার পাশে থাকা কিছুটা ভালো ছেলেটি তাকে বারণ করলো আইনের ভয় দেখিয়ে। তার আইনের ভয় ক্ষুধার্ত লোকের যুক্তির কাছে থুবড়ে গেলো। ক্ষুধার্ত লোকটি তনু ধর্ষণের ধর্ষক বিচার কোন আদালতে হয়েছে জানতে চাইলো!! তার বন্ধু নিরব। ২০১৯ সালের কোন এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ৪৭ জন শিশু যৌনহয়রানির স্বীকার হয় তার মধ্যে ৩৯ জন সরাসরি ধর্ষণ হয়েছে (বাংলাদেশ প্রতিদিনরে ভাষ্যমতে) তাদের বিচার কতটুক হয়েছে যৌনক্ষুধার্ত লোকটি জানতে চাই? বন্ধুটি নিরব! বলার মত কোন সাহস নাই। মুগদার হাসি , লালমনির হাঁটের রোজিনা সবার কথা যৌনক্ষুধার্ত
লোকটি বলেই যাচ্ছে। তাদের বিচার কোন অবস্থায় আছে জানতে চাই?? বন্ধুটি নিরব।
এবার যৌনক্ষুধার্ত তার বন্ধুকে বলে ২০১৯ সালের তিন মাসের একটা রিপোর্টে দেখা যায় “গণধর্ষণ” এর স্বীকার হয় ১৫ জন। এদের বিচার কোথায় হল ? বন্ধুটি নিরব। তবে এই জরিপে বন্ধুটিও নড়ে উঠলো। গণধর্ষণের লোভ তারও জিহ্বায় চলে আসছে। আহ কি মজা। বিচার নাই। ধর্ষণ করতে অসুবিধা কি?
আবারও আজ অন্য কারো মেয়ে ঢাবি কিংবা তিতুমীরের, জগন্নাথ কিংবা জাহাঙ্গিরের, বোরকা নাকি বোরকা ছাড়া যেই হোক না কেন- রাস্তায় চলতে গিয়ে স্বীকারে পড়ে গেলো । ক্ষুধার্তরা আবারও ভক্ষণ করলো। তাদের পেশি শক্তির কাছে মেয়েটি একসময় নিস্তেঝ। পশুগুলো পালাবদল করলো ।খায়েশ মিটলো। এবার ছেড়ে দিলো কিংবা মেরে দিলো।
সকালে কেউ একজন লাশ আবিস্কার কিংবা রক্তমাখা দেহ আবিস্কার করলো একটা মেয়ের। মিনিটে ভিতরে হাজারো লোকের উপস্থিতি। সবার তার জামা ছেঁড়া অঙ্গের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। সাংবাদিকরা আসলো। আজ সেরা নিউজ হবে। পত্রিকার পাতা কাঁপিয়ে দেওয়া হবে।সকল ছাত্র মহলের কানে গেলো। অবস্থা বুঝে পুরো দেশ কেঁপে উঠলো। ধর্ষকরা গ্রেফতার হলো কিংবা হলো না। আন্দোলন কয়েকদিন চলল। আবার নিরব। সব ভুলে যাওয়ার পালা এবার ।
আবার তনুরা বড় হচ্ছে। ধর্ষকরাও ক্ষুধার্ত হচ্ছে। আবার ধর্ষণ হবে। আবার আন্দোলন। এটাই বাংলাদেশ। এটাই স্বাধীনতা। এটাই আমার রক্তে রঞ্জিত সোনার বাংলা।
শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যম কর্মী
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *