নির্বাচন বর্জন ভুল ছিল, অবশেষে স্বীকার করলেন ফখরুল

ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। এসময় তিনি মন্তব্য করেন, আগের দু-একটি নির্বাচন বর্জন সঠিক হয়নি।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন চত্বরে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবহ বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। অনেকে আমাদের প্রশ্ন করেন, সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, নির্বাচনে যাচ্ছেন কেন?

কারণ, আমরা একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি, নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথে ক্ষমতার পরিবর্তনের পথ নেই, হওয়া উচিত না। সে কারণেই আমরা সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এই সরকারের আমলে আগের দু-একটি নির্বাচন বর্জন সঠিক হয়নি বলে সভায় মন্তব্য করেন ফখরুল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, আমরা মনে করি যে অতীতে দু-একটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। এরপর থেকে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা আমাদের দলকে জনগণের সঙ্গে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করতে চাই। আমরা মনে করি, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে হবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে আমরা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে মনে করছি।

তিনি বলেন, এমন একটা দিন নেই, এমন একটা ক্ষণ নেই, এমন একটা বক্তৃতা নেই, যেখানে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলেন না আওয়ামী লীগ নেতারা। তাহলে বিএনপি হচ্ছে সরকারের জন্য একটা বড় সমস্যা। আসলে সমস্যা হওয়ার কারণ হচ্ছে বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, নির্বাচনে বিশ্বাস করে, জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করে। বিএনপি অতীতে যেমন লড়াই-সংগ্রাম করেছে গণতন্ত্রের জন্য, এবারও লড়াই করে বিএনপি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।

এসময় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা আমরা বলেছিলাম। আওয়ামী লীগের দলীয় রাষ্ট্রপতি আমাদের কথা শোনেননি। তিনি এমন সব লোকজন দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, যাদের কোনো যোগ্যতা নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথা শুনলে মনে হয় ওনার নির্বাচন কমিশন পরিচালনার কোনো যোগ্যতা নেই।

তিনি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই আওয়ামী লীগ কেয়ারটেকার সরকারের দাবি নিয়ে এসেছিল। তারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিল, হরতাল করেছিল। জনগণের দাবি তখন আমরা মেনে নিয়েছিলাম, কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গদি রক্ষার জন্য কেয়ারটেকার সরকারের বিধান তুলে দেয় আওয়ামী লীগ। পর্যায়ক্রমে সংবিধানে এমন সব আইন সংযোজন করে, যাতে একদলীয় ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা যায়। এসবের বিরুদ্ধে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আপনাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, প্রতিনিয়ত নির্যাতন হচ্ছে, প্রচণ্ড নির্যাতন হচ্ছে, খুন করছে, গুম করছে, তারপরও আপনারা মাথা নোয়াননি। হার স্বীকার করেননি। সে জন্য বলছি, হতাশা কখনো আপনাদের আসল জায়গায় পৌঁছে দেয়নি। বিএনপির দিকে মানুষ আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। বিএনপি আন্দোলন শুরু করবে, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করবে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।

এ সময় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, নেতা-কর্মীদের মামলা দিয়ে, গুম করে, দেশপ্রেমিক মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। আওয়ামী লীগ আজ একটি নতজানু সরকারে পরিণত হয়েছে। সরকার নিজের গদি টিকিয়ে রাখার জন্য যখন যে যা হুকুম দিচ্ছে, সেটাই মেনে নিচ্ছে।

তিনি আরো আমাদের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন মানুষ হত্যা করে, সরকারের প্রতিবাদ করার সাহস হয় না। আমরা নদীতে পানি পাই না, সরকার ভারতের কাছ থেকে পানি আনতে পারে না। অথচ ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *