পাকিস্তান সফর বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিস্কার করলেন পাপন

ঢাকা: অবশেষে পাকিস্তান সফর নিয়ে জটিলতার অবসান হয়েও যেনো হচ্ছে না। রোববার (১২ জানুয়ারি) বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির বর্তমান অবস্থান পরিস্কার করলেন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

তিনি বলেন, পাকিস্তান সফরের বিষয়ে নিরাপত্তা রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। এটার পর যেটা লাগে তাহলো-সরকারের অনুমোদন লাগে। সেটার জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম। সেখানে আমাদের ফুল সিরিজের শিডিউলটাই ছিলো। এখন পর্যন্ত কাগজটা আমাদের হাতে পৌঁছায়নি তবে একটা স্ক্রিনশট আমরা পেয়েছি। তারা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের এখন যে পরিস্থিতি তা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। এই পরিস্থিতি সফর যতোটা সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব সেটাই করতে বলেছেন।

পাকিস্তান সফরে শুধু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার সরকারি অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পাকিস্তান সফরে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুমোদন চায় ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে সীমিত সময়ের জন্য সফর করার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এফটিপি তথা ফিউচার ট্যুর প্লান অনুসারে চলতি মাসে পাকিস্তান সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নেয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে পাকিস্তানের মাঠে লম্বা সময়ের জন্য ক্রিকেটারদের পাঠানোর অনুমোদন দেয়নি সরকার। শুধু টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এর আগে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, আমরা পাকিস্তানকে জানিয়েছি, ৩ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে আমরা চলে আসতে চাই। এসে পরে আবার কোনো এক সময় টেস্ট সিরিজের সূচি নতুনভাবে করা যায় কি না, তাদের সঙ্গে এ নিয়েই আলাপ করছিলাম। যদিও তাদের টেস্টের দিকেই বেশি নজর। তারা টেস্ট নিয়ে বেশি আগ্রহী। যেহেতু এটা আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। ওরা বলছে, টেস্টটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পাপন বলেন, মুশফিক প্রথম থেকে পাকিস্তান সফর নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। অন্য যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা বলেছে সূচি ছোট হলেই ভালো হয়। এটা আমরা পিসিবিকে বলেছিলাম। তারা আবার আমাদের পাল্টাভাবে পাঠিয়েছে, আমাদের অনেক খেলোয়াড়, প্রায় সবাই তারা পিএসএলে ৩৫ দিনের জন্য পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় থেকে খেলবে। তাহলে কেন জাতীয় দলের জন্য এ কদিন পারবে না।

বিসিবি সভাপতি বলেন, আমাদের আসল সমস্যা হচ্ছে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে যেটা আমরা বুঝেছি, কোচিং স্টাফদের অনেকেই পাকিস্তান সফরে যেতে আগ্রহী না। তবে হেড কোচ বলেছে যাবে। সেও টি-টোয়েন্টির কথা বলেছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য সে যাবে। খেলোয়াড় যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা সবাই অল্প সময়ের জন্য সফর করতে চায়। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা তাদের জানিয়েছি। আমরা টি-টোয়েন্টি খেলে চলে আসব, পরে টেস্ট খেলব। কিন্তু তারা গুরুত্ব দিচ্ছে টেস্টকে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে এফটিপিতে নির্ধারিত হয় পাকিস্তানের মাঠে বাংলাদেশ দলের দুটি টেস্ট ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *