যেভাবে কার্যকর হবে প্রাথমিকের নতুন বেতন গ্রেড

ঢাকা: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। রোববার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মনোয়ারা ইশরাত স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৭ নভেম্বর অর্থ বিভাগের সম্মতিক্রমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মাঠপর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল ১৪ থেকে ১৩তম গ্রেডে উন্নীতকরণ করা হলো।

বলা হয়েছে, নির্দেশনার ফলে এখন থেকে সহকারী শিক্ষকরা যোগদানের পরই ১৩তম গ্রেডে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা সুবিধা পাবেন। আগে এ স্তরের শিক্ষকরা ১৫তম গ্রেডে যোগদানের পর প্রশিক্ষণবিহীন অবস্থায় ৯ হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতন পেতেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ার পর ১৪তম গ্রেড উন্নীত হয়ে ১০ হাজার ২০০ টাকা বেতন পেতেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নতুন বেতন গ্রেড যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কার্যকর করা হবে। এ বিষয়ে বিদ্যমান সকল বিধি-বিধান ও আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এ-সংক্রান্ত ব্যয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে।

এর আগে প্রাথমিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এতদিন চতুর্দশ (১০,২০০ – ২৪,৬৮০ টাকা) এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা পঞ্চদশ গ্রেডে (৯,৭০০ – ২৩,৪৯০ টাকা) বেতন পেয়ে আসছিলেন। এখন থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের সবার বেতন ত্রয়োদশ গ্রেডে (১১,০০০ – ২৬,৫৯০ টাকা) শুরু হবে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করা হলেও প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড আগের মতই রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা একাদশ এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা দ্বাদশ গ্রেডে বেতন পাবেন। ২০১৯ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করা হয়েছে জানিয়ে আদেশে বলা হয়, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। আর ৩৫ শতাংশ পদে হবে সরাসরি নিয়োগ।

ওই ৬৫ শতাংশ পদে পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সরাসরি নিয়োগ দেয়া যাবে। সহকারী শিক্ষক পদে সাত বছরের অভিজ্ঞরা পদোন্নতির যোগ্য হবেন। আর সহকারী শিক্ষকদের সব পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে কোনো স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি পাস থাকতে হবে। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করে সরকার। একইসঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল এক ধাপ উন্নীত করা হয়। প্রধান শিক্ষকরা তাদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতের দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট হলে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের (প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত) দশম গ্রেডে বেতন দিতে নির্দেশ দেয়। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে ওই আদেশ কার্যকর করতে বলা হলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *